জানুয়ারি-জুলাই

২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ চুক্তি

চলতি পঞ্জিকা বর্ষের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বিশ্বব্যাপী ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারের একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০২১ সালের শীর্ষপর্যায়ের পর সর্বোচ্চ চুক্তিমূল্য।

চলতি পঞ্জিকা বর্ষের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বিশ্বব্যাপী ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারের একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০২১ সালের শীর্ষপর্যায়ের পর সর্বোচ্চ চুক্তিমূল্য। মার্কিন শুল্কনীতির অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও এমঅ্যান্ডএ খাতের এ প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক উত্থান। খবর আরব নিউজ।

বৈশ্বিক এমঅ্যান্ডএ বাজারে উল্লিখিত সময়ে অর্ধেকেরও বেশি চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চুক্তির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে; যা ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা (ইএমইএ) অঞ্চলকে ছাড়িয়ে গেছে।

ব্যবসাবিষয়ক ডাটা পরিষেবাদাতা ডিলজিকের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চুক্তির সংখ্যায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ সংকোচন দেখা গেছে। তবে একই সময়ে চুক্তির মোট মূল্য ছিল আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। এতে অবদান রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পাদিত ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একাধিক চুক্তি।

জানুয়ারি-জুলাইয়ের বড় চুক্তির মধ্যে রয়েছে রেল পরিবহন কোম্পানি ইউনিয়ন প্যাসিফিক করপোরেশনের ৮৫ বিলিয়ন ডলারে নরফোক সাউদার্ন অধিগ্রহণের প্রস্তাব। এরপর রয়েছে সফটব্যাংক গ্রুপের নেতৃত্বে ওপেনএআইয়ে ৪০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন।

একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ খাতে এমন ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগ ব্যাংকারদের জন্য স্বস্তির বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। কারণ চলতি বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বড় একীভূতকরণ ‍চুক্তির প্রত্যাশা করেছিলেন তারা। কিন্তু শুল্কনীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে করপোরেট সংস্থাগুলোয় নতুন আস্থা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অ্যান্টিট্রাস্ট নীতি বদলের ইঙ্গিতে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়।

কভিড-পরবর্তী ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তনে বৈশ্বিক এমঅ্যান্ডএ চুক্তির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৫৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। তবে চলতি বছরের একই সময়সীমায় এর পরিমাণ হয়েছে সে সময়ের চেয়ে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার কম। এ গতি অব্যাহত থাকলে চলতি বছর শেষে মোট এমঅ্যান্ডএ চুক্তির পরিমাণ ওই বছরের সম্মিলিত অংকের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

অবশ্য জেপি মরগান চেজের এমঅ্যান্ডএ খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছর আরো কিছু বড় চুক্তি হতে পারে। শুল্ক অনিশ্চয়তা মানিয়ে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কোম্পানিগুলো।

স্লটার অ্যান্ড মের করপোরেট অ্যান্ড এমঅ্যান্ডএ বিভাগের সহপ্রধান সাইমন নিকোলস বলেন, ‘মানুষ অনিশ্চয়তা মেনে নিতে শিখেছে, কিংবা বলা যায়, মার্কিন নির্বাচন-পরবর্তী অনিশ্চয়তাও এখন কিছুটা পূর্বাভাসযোগ্য হয়ে উঠেছে।’

এমঅ্যান্ডএ খাতে মহামারী-পরবর্তী বছরগুলোয় স্বাস্থ্য খাত নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে গত দুই বছরে মার্কিন ও ব্রিটিশ কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিকস খাতে অধিগ্রহণের প্রস্তাব বেশি এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ভবিষ্যতে আরো বেশি চুক্তি দেখা যাবে। বিশেষ করে ডাটা সেন্টার খাতে এমঅ্যান্ডএ চুক্তি চোখে পড়ার মতো। যেমন সম্প্রতি ১৭০ কোটি ডলারে জার্মানির ডাটা সেন্টার কুলিং স্পেশালিস্ট ফ্ল্যাকটগ্রুপ অধিগ্রহণ করেছে স্যামসাং।

আরও